ফ্রীল্যান্সিং কি? কেন? কীভাবে?

ফ্রীল্যান্সিং কি?

ফ্রীল্যান্সিং মানে হলো মুক্ত পেশা।
আজকাল সবাই অনলাইন নির্ভর হয়ে যাচ্ছে, তাই সবাই চায় তাদের যেসব কাজ আছে তা অনলাইনেই সম্পন্ন করতে। এখন কেউ যদি কাজটা একা করতে না পারে বা অন্যের সাহায্য লাগে বা অন্য কাউকে দিয়ে কাজ টা করিয়ে নিতে চায়, তাহলে লোক তো লাগবেই কাজ টা করাতে নাকি? সেই লোক টা হলো ফ্রীল্যান্সার। অর্থাৎ কারো কোন কাজ করে দেয়াই হলো ফ্রীল্যান্সারের কাজ, আর সে এটার বিনিময়ে একটা পারিশ্রমিক পায়।
এখন বলবেন, ধুর এটা করা যাবে না। মানুষের কাজ করে দিতে হবে। আরে না ভাই… ব্যাপার টা ওরকম না। ফ্রীল্যান্সার দের কাজ গুলা সেরকম না যে আপনাকে চাকর চাকর মনে হবে করলে। আপনাকে একটা কম্পিউটারে সেই কাজটাই করতে হবে যা একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার অফিসে বসে করে। শুধু আপনি ঘরে বসে করবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কেন?

ফ্রীল্যান্সিং যেহেতু ঘরে বসে করা যায়, তাই অনেকে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এটাকে পার্ট টাইম জব হিসেবে নেয়। এতে আপনি আপনার নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারবেন, নিজের পকেট খরচ টা সেরে নিতে পারবেন, আপনাকে আর সামান্য টাকার জন্য বাবা-মা এর কাছে হাত পাততে হবেনা। তাছাড়া ভাল কাজ জানলে আপনি এটাকে প্রফেশন হিসেবেও নিতে পারবেন। কারণ যারা ভাল কাজ করতে পারে তারা মাসে লাখ টাকাও ইনকাম করে। এটা শুনে লোভ লাগলেও এতো সহযে নিয়েন না ব্যাপার টা। কারণ জীবনে তাড়াতাড়ি বড় হতে হলে হয় আপনাকে খারাপ পথে পা বাড়াতে হবে, না হয় খুব পরিশ্রম করতে হবে। ফ্রীল্যান্সিং এ খারাপ পথে যাওয়ার তো উপায় নাই, তাই আপনাকে খুব পরিশ্রম করতে হবে।
ফ্রীল্যান্সিং করে বেকারত্ব দূর করা যেতে পারে। আজকের চাকরির বাজারে যা মন্দা চলছে, তাতে এ লাইনে নিজেকে গড়ে তোলা উত্তম। তবে ভাই যাই হোক, পড়াশোনা ছাইড়েন না। দরকার হইলে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এ পড়েন তাও পড়াশোনা ছাইড়েন না। আর একটা কথা, কাজ না জেনে মার্কেট প্লেসে আসবেন না। আগে কাজ শেখাটা জরূরী।
ফ্রীল্যান্সিং কীভাবে?
ফ্রীল্যান্সিং করতে অবশ্যই আপনাকে একটা কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে। আপনার থাকতে হবে প্রচুর ইচ্ছা শক্তি, অনেক সময় আর ধৈর্য। ফ্রীল্যান্সিং এ অনেক সেক্টর রয়েছে যেমনঃ
  • ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট/ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট
  • গ্রাফক্স ডিজাইন
  • কন্টেন্ট রাইটিং
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • ডাটা এন্ট্রি ইত্যাদি…
এছাড়াও আরও অনেক সেক্টরে কাজ করতে পারবেন আপনি। এর মধ্যে যেকোন একটিতে ভাল করে দক্ষ হতে পারলেই আপনি ভাল উপার্জন করতে পারবেন। কারণ প্রতিটি সেক্টরেরই প্রচুর ডিমান্ড রয়েছে অনলাইন জগতে, তাই কাজের অভাব হবে না। তবে সবাই ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনেই বেশি আকৃষ্ট। এটাকে আপনি নতুন হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন- যেহেতু সবাই এই দুই সেক্টরে বেশি ঝুকে পড়ে আপনি অন্য কোন সেক্টরে জ্ঞান লাভ করেন। কারণ যেহেতু সব সেক্টরেই কাজের অভাব হয় না, তাই নিশ্চই এই দুইটা বাদে বাকি গুলাতে কাজের চেয়ে লোক কম হবে।
আর একটা কথা সময় কিন্তু অনেক লাগে ফ্রীল্যন্সিং শিখতে, যেহেতু কম্পিউটার ইঞ্জিয়ারদের কাজ আপনি করবেন, তারা ৪-১০ বছর এসব নিয়ে পড়াশোনা করে আর আপনি এমনিতেই এতো সহজে কাজ করে উপার্জন করতে পারবেন!! এটা ভুলেও ভাববেন না। আপনাকে অবশ্যই অন্তত ৬ মাস প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। তাহলে আপনি মার্কেটপ্লেসে নামার উপোযোগী হবেন। কিন্তু উপার্যন কম হবে। আপনাকে আরো দক্ষ হতে হবে ভাল উপার্জনের জন্য। এতে আপনার এক থেকে দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে। অবহেলায় কাজ শিখলে ৪-৫ বছরও লেগে যেতে পারে। কিন্তু আপনি এতোদিনে উপার্জন করতে পারবেন সেটা হবে কম। কাজ জানলেই উপার্জন। তাই বলে পড়াশোনা সব ছেড়ে এসবই করবেন, তা কিন্তু নয়। পড়াশোনা চালিয়েই যেতে হবে।
আর এই ফ্রীল্যান্সিং যে করবেন, সেটা তো বাংলাদেশের লোকের কাজ করবেন না শুধু, আপনাকে বাইড়ের দেশের লোকেদের কাজ করে দিতে হবে। ফ্রীল্যান্সিং এ বাইরের দেশের লোকেদেরই কাজ করে দিতে হয়। তাই তাদের সাথে কি বাংলায় কথা বলবেন? অবশ্যই না, ইংরেজী লাগবে। ইংরেজীতে দক্ষ হলে তো কথাই নেই। ফ্রীল্যান্সিং এ সফল হতে যেমন কাজের দক্ষতা লাগবে, ঠিক তেমনই দক্ষতা লাগবে ইংরেজীতে। তা সম্ভব না হলেও অন্তত তাদের সাথে চ্যাটিং টা যেন করতে পারেন, সেরকম ইংলিশ শেখেন। অনেকে কমিউনিকেশন স্কিল দেখে কাজ দেয়, ব্যাকরণ ভুল হলেও ধরে। তাই বলি ইংলিশ টাকেও গুরুত্ব দিয়েন।
ফ্রীল্যান্সিং এ কিছু সাধারণ জিনিস জানতে হবে- যেমনঃ
আপনি যার কাজ করে দেবেন তাকে এখানে বায়ার বা ক্লায়েন্ট বলা হয়, আর আপনি যদি সেই কাজটা করে দেন, তাহলে আপনাকে বলা হবে ফ্রীল্যান্সার বা সেলার। আর আপনি বাইরের দেশের কাজ করে তারা তো আপনাকে টাকা দেবে না, দেবে ডলার ($)। বুঝলেন??
ফ্রীল্যান্সিং করতে আপনাকে এর সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে, কি নিয়ে কাজ করবেন সেটারও ধারণা নিতে হবে, কোথায় কাজ পাবেন সেই জায়গা সম্পর্কেও ধারণা নিতে হবে, কিভাবে কাজ পাবেন সেটা নিয়েও ধারণা নিতে হবে, কাজ করে যে টাকা পাবেন সেটা নিয়েও ধারণা নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *