ফ্রীল্যান্সিং কি এবং ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

আজকে আমরা ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে ভুল ধারণা গুলো নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের দেশে অনেকেই আছে যারা ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে অনেক ভুল ভ্রান্তিতে আছে। তাই তারা ফীল্যান্সিং এ আসতে ভয় পাচ্ছে বা মন সায় দিচ্ছে না ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে এগোতে। এই আলোচনায় এটি ক্লিয়ার করব আজ।

ফ্রীল্যান্সিং নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা সমূহঃ

    • কোথাও কিছু না হলে ফ্রীল্যান্সিং শেষ উপায় অর্থ উপার্জনের
    • যে কেউ ফ্রীল্যান্সিং করতে পারবে, এর জন্য যোগ্যতার বেশি প্রয়োজন নেই
    • ফ্রীল্যান্সিং করতে অনেক কিছু জানতে হয়
  • ফ্রীল্যান্সিং পার্টটাইম আয়ের উতস, ফুল টাইম হতে পারে না
  • বিদেশীদের মতো দক্ষ হতে হবে ইংরেজীতে তাহলে ফ্রীল্যান্সিং করা যাবে
  • মাত্র কয়েকদিন শিখেই ফ্রীল্যান্সিং করে উপার্জন করা যায়
  • ফ্রীল্যান্সিং শিখতে হলে ট্রেইনিং সেন্টারে শিখতে হয়
  • সায়েন্সের স্টুডেন্ট ছাড়া ফ্রীল্যান্সিং সম্ভব নয়
  • ফ্রীল্যান্সিং করতে লেখাপড়া না জানলেও চলবে

এসব ভুল ধারণার জন্যে অনেকে ফ্রীল্যান্সিং কে অবহেলার চোখে দেখে। তাই এসব ভুল ধারণা গুলো মন থেকে ঝেরে ফেলুন, আর আসল তথ্য অনুসন্ধান করুন।

কোথাও কিছু না হলে ফ্রীল্যান্সিং শেষ উপায় অর্থ উপার্জনেরঃ

এটা একটা ভুল ধারণা। কিছু লোক আছে যারা নিজেদের বিজ্ঞ ভাবে, আর মন গড়া যা পায় তাই বলে। আসলে ফ্রীল্যান্সিং এতোই সোজা? আর ফ্রীল্যান্সিং এ ঢুকলেই টাকা ইনকাম করা যায়? যদি তাই হতো তাহলে সবাই গরুর মতো খেটে চাকরি না করে ফ্রীল্যান্সিং করত। তাই ওসব ধারণা রাখেন। আর বিশ্বাস না হলে নিজেই ঢুকে দেখেন।

যে কেউ ফ্রীল্যান্সিং করতে পারবে, এর জন্য যোগ্যতার বেশি প্রয়োজন নেইঃ
খুব ভাল তো, তাহলে আমরা সবাই পড়াশোনা বাদ দিয়ে আজ থেকে ফ্রীল্যান্সিং এ ঢুকে যাই। আরে ভাই, এতো সোজা না। যারা অভিজ্ঞ ফ্রীল্যান্সার তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখেন। এতো সোজা হলে তো হয়েই যেত। আপনি যদি ফ্রীল্যান্সিং সম্পর্কে ধারণা নেন তাহলেই বুঝবেন। আপনাকে শিখতে হবে যেকোন একটা কাজ। তাহলেই তো সেই কাজের উপরে আপনি ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তাছাড়াও ইংরেজী সম্পর্কে বেসিক ধারণা যদি না থাকে, আপনি এখানে টিকে থাকতে পারবেন না। টিকে থাকা তো দূরের কথা কাজ শিখতেও হিমশিম খাবেন। সব কাজেই যোগ্যাতা লাগে।
আর যে কেউ ফ্রীল্যান্সিং করতে পারবে এটাও একটা ভুল ধাওণা। কারণ ফ্রীল্যান্সিং করতে গেলে আপনার প্রথমে লাগবে ধৈর্য, চেষ্টা, নিরলসতা, আর প্রচুর সময়। আপনাকে অনেক সময় নিয়ে শিখতে হবে, তাড়াতাড়ি সম্ভব নয় কিছু শেখা। আপনার ইচ্ছা না থাকলেও আপনি ফ্রীল্যান্সিং করতে পারবেন না, কারণ ইচ্ছা থাকলে যে কোন কিছুতেই সফল হওয়া যায়। আর অলসতা থাকলে আপনাকে ফ্রীল্যান্সিং এ না আসার অনুরোধ, কারণ বেকার সফল হতে না পেরে ফ্রীল্যান্সিং এর প্রতি নেগেটিভ ধারণা রাখবেন।
ধৈর্য লাগবে ফ্রীল্যান্সিং এ। কারণ ধৈর্য আপনাকে যেকোন কিছুতে সফল হতে সাহায্য করে। আর ফ্রীল্যান্সিং এ সব কিছুতেই ভাল ভাবে ফোকাস করা উচিত।

ফ্রীল্যান্সিং করতে অনেক কিছু জানতে হয়ঃ

কি কি জানতে হয় ভাই? বেকার ফালতু ধারণা রাখেন কেন? যেটা যানেন না তা নিয়ে কথা বলেন কেন? ফ্রীল্যান্সিং শিখতে বেশি কিছু জানতে হয় না রে ভাই।
অনেক ক্যাটাগরীর মধ্যে থেকে যেকোন একটাকে সিলেক্ট করে তা শিখলেই আপনি ফ্রীল্যান্সিং করতে পারেন। যেমনঃ
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট
  • ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট
  • ডাটা এন্ট্রি
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • ভিডিও এডিটিং ও এনিমেশন
  • সার্ভে ইত্যাদি আরও অনেক ক্যাটাগরি রয়েছে
এসব থেকে যেকোন একটা বেছে নিয়ে কাজ শিখুন আর ফ্রীল্যান্সিং করুন। এতে অনেক কিছু জানার কি হলো? শুধু ইংরেজী টাতে বেসিক ধারণা থাকতেই হবে।
ফ্রীল্যান্সিং পার্টটাইম আয়ের উতস, ফুল টাইম হতে পারে নাঃ
ফ্রীল্যান্সিং পার্টটাইম -ফুলটাইম দুটোই সম্ভব। আপনি অনেক ভাল কাজ জানেন বা আপনি আপনার কাজে অনেক অভিজ্ঞ, তাহলে আপনি অবশ্যই ফুল টাইম কাজ করতে পারবেন। ধরেন আপনি কোন এক কোম্পানির কাজ করে দিলেন। সে আপনার কাজে অনেক খুশি হলো। তখন সে আরো কাজ থাকলে আপনাকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারে। আপনি সব গুলাই ভাল ভাবে করে দিলেন ও বায়ার কে সন্তুষ্ট করতে পেলেন, তাহলে অবশ্যই সে বায়ার তার কোম্পানির সব কাজ আপনাকে দিয়েই করিয়ে নেবে। অর্থাৎ আপনাকে একটা মাসিক পেমেন্ট দিয়ে চাকরি সিস্টেমে আপনাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেবে।
তাই বলতে হয়, ফ্রীল্যান্সিং পার্টটাইম ফুলটাইম দুটাই সম্ভব।
বিদেশীদের মতো দক্ষ হতে হবে ইংরেজীতে তাহলে ফ্রীল্যান্সিং করা যাবেঃ
না। আপনার বেসিক লেভেলের ইংরেজী জানলেও হবে। অর্থাৎ আপনি যদি ইংরেজীতে চ্যাটিং করতে পারেন তাহলেই হবে। কারণ আপনাকে কাজ দিবে বাইরের দেশের লোকেরা। তারা ইংরেজীতেই কথা বলবে আপনার সাথে। শুধু চ্যাটিং করার মতো দক্ষতা যদি আপনার থাকে ইংরেজীতে, তাহলেই হবে।
মাত্র কয়েকদিন শিখেই ফ্রীল্যান্সিং করে উপার্জন করা যায়ঃ

ফ্রীল্যান্সিং শিখতে কমপক্ষে ৬ মাস লাগবেই। বাকিটা আপনার উপর নির্ভর করবে। কারণ আপনি যেভাবে এগোতে চাইবেন, সেভাবেই চলবে। এতে আপনার ৬-১ বছর লেগে যাবে বা ২-৪ বছর ও লেগে যেতে পারে। তবে উপার্জন করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে ছয় মাস পরিশ্রম করে শিখতেই হবে।

ফ্রীল্যান্সিং শিখতে হলে ট্রেইনিং সেন্টারে শিখতে হয়ঃ

আপনি বাসায় বসেও শিখতে পারেন ফ্রীল্যান্স। বাসায় ইন্টারনেটে টিউটোরিয়াল দেখে বা আর্টিকেল পড়েও শিখতে পারেন। ইউটিউবে উন্নত মানের অনেক টিউটোরিয়াল আছে যা দেখে সহযেই ফ্রীল্যান্সিং শিখতে পারেন। বড় বড় ফ্রীল্যান্সারদের বেশির ভাগই নিজের চেষ্টায় শিখেছে, কোন ট্রেইনিং সেন্টার লাগে নাই।

সায়েন্সের স্টুডেন্ট ছাড়া ফ্রীল্যান্সিং সম্ভব নয়ঃ

এটাও ভুল। শুধু সায়েন্স কেন? কমার্স আর্স সবার জন্যেই ফ্রীল্যান্সিং। শুধু প্রয়োজনীয় বিষয় গুলাতে দক্ষতা অর্জন থাকলেই হলো। সায়েন্স আর্স ফ্যাক্ট না।

ফ্রীল্যান্সিং করতে লেখাপড়া না জানলেও চলবেঃ

নারে ভাই লেখাপড়া সব গুলাতেই লাগে যদি ভাল কিছু হতে চান। একেবারে পড়ালেখা না জানলে আপনি পারবেন না ফ্রীল্যান্সার হতে। আপনাকে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণী তো পাশ অরতে হবেই। নাহলে বুঝবেন ক্যামনে? পড়াশোনাও লাগে ভাই।
যাই হোক, ভুল ধারণা গুলা বাদ দিয়ে যোগ্যাতা অর্জন করুন দক্ষতা অর্জন করেন আর লেগে থাকেন। তাহলে যেকোন কিছুতেই নিজের একটা সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব, হ্যাপি ফ্রীল্যান্সি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *